অর্থ-বাণিজ্য

দ্রুততম সময়ে মজুরি বাস্তবায়নের আশ্বাস পোশাকশিল্প মালিকদের

ঢাকা, ওপেনপ্রেস২৪ নিউজ ডেস্ক : তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা। তারা চলমান আন্দোলন-বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ ৪ নভেম্বর ২০২৬ বুধবার রাজধানীর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এসব কথা বলেন। খবর বাসস।

তাঁরা জানান, নবগঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ড আজ প্রথম সভা করেছে। এ সভায় মজুরি পুনর্বিবেচনার কাজ সম্পন্ন করতে একটি সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

পোশাকশিল্পের নেতারা বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার মজুরি পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত এগোচ্ছে। বোর্ডের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কারখানার মালিকরা নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করবেন।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মধ্যে এর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের শ্রম ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রথম সভার মাত্র চার দিন পর আগামী ৯ নভেম্বর বোর্ডের দ্বিতীয় সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের দাবি নিষ্পত্তিতে সরকারের আন্তরিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তা শ্রমিক, পোশাকশিল্প এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে। তাই শ্রমিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পোশাকশিল্পের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কোনো কোনো স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি নিষ্পত্তির চলমান উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে বিকেএমইএ। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্পাঞ্চলে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা, যাতে মজুরি বৃদ্ধির সুযোগে বাড়ির মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে না পারেন।

এ ছাড়া পোশাক শ্রমিকদের জন্য রেশনিং সুবিধা বা ফ্যামিলি কার্ড চালু, শিল্পাঞ্চলে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং প্রধান শিল্পকেন্দ্রগুলোতে শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন বা ডরমিটরি নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নেতারা বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং মজুরি-সংক্রান্ত সমস্যার টেকসই সমাধানে সরকার, মালিকপক্ষ ও দায়িত্বশীল শ্রমিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

তাঁরা শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার, মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমের ওপর আস্থা রাখার এবং স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে অবিলম্বে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তাঁরা আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে মজুরি বোর্ড নির্বিঘ্নে কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। এর মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে।

Share

Follow us