আত্মহত্যায় প্ররোচনা : রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী
ঢাকা,ওপেনপ্রেস২৪ নিউজ ডেস্ক : আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এক দিনের রিমান্ড শেষে আজ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। খবর বাসস।
এর আগে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালত।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়।
সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকসুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকসুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইলে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার উপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান।

