অর্থ-বাণিজ্য

শ্রমিকরা কাজে ফেরায় শিল্পাঞ্চলে ফিরছে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য

ঢাকা, ওপেনপ্রেস২৪ নিউজ ডেস্ক : সরকারের উদ্যোগে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্তের পর সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা কাজে ফিরেছেন। শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রমে গতি ফিরতে শুরু করেছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় শিল্পাঞ্চলে কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

আজ ৫ নভেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, মিরপুর, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে গাজীপুরের টঙ্গী, বাসন, কোনাবাড়ি ও শ্রীপুর এলাকার প্রায় সব কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে। সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিকদের কাজে যোগদানের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। খবর বাসস।

শিল্প পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) গাজী জসিম উদ্দিন বাসসকে বলেন, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো। বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতিও তুলনামূলক ভালো।

গাজীপুরের কয়েকটি পোশাক কারখানার মালিক জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকেরাও সরকারের এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে কাজে ফেরার কথা জানিয়েছেন।

গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক আমজাদ হোসাইন বাসসকে বলেন, তারা চান কারখানা চালু থাকুক। কারখানা বন্ধ হলে তাদের কাজের সুযোগ থাকবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর থেকে তাদের বেতন বাড়বে। সরকারের এ উদ্যোগে তারা খুশি।

জেলার সাতাইশ-গাজীপুরা এলাকার পোশাকশ্রমিক তানিয়া বলেন, তাদের কারখানার শ্রমিকেরা নিয়মিত কাজ করছেন। কারখানা বন্ধ ছিল না এবং আজ বৃহস্পতিবারও তারা কাজ করছেন। বাইরে থেকে আসা কিছু লোক কারখানার সামনে মিছিল করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। ৩৫টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ, গাজীপুর’-এর সভাপতি তমিজ উদ্দিন তনু বলেন, পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে পুঁজি করে কোনো কুচক্রী মহল বা বহিরাগত যাতে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিউল আলম বলেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বোর্ডের ওপর আস্থা রেখে আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরে তিন প্লাটুন, সাভার ও আশুলিয়ায় ১১ প্লাটুন, গাজীপুরে ১২ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জে সাত প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারে আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), রায়ট কন্ট্রোল ভেহিকল (আরসিভি) ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের সময় বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

গাজীপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে বিজিবির ১২ প্লাটুন, শিল্প রিজার্ভ পুলিশের (এসআরপি) আট প্লাটুন এবং আনসারের পাঁচ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ ও শিল্প পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে।

আজ গাজীপুরে শ্রমিকদের কোনো মিছিল, সমাবেশ বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা-টঙ্গী, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে, তৈরি পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে অর্থায়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসসকে জানান, কয়েকটি সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিবরণ চাওয়া হয়েছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও এর আওতায় আসতে পারে।

এনবিআর সূত্র জানায়, সংস্থাটির দুটি গোয়েন্দা ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব শনাক্ত এবং জব্দ করার অনুরোধ জানিয়েছে।

Share

Follow us