শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের এআই ও আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, ওপেনপ্রেস২৪ নিউজ ডেস্ক : প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। নবীন শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে মেধা, দক্ষতা ও জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম আবর্তন) নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেওয়া হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু পাঠ্যবিষয় আত্মস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

বর্তমান বিশ্বে কারিগরি শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া যায়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। এই মেধাবী তরুণদের যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়েও নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবে।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদেরই গড়ে তুলতে হবে। শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের উৎকৃষ্ট মানবসম্পদ হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনা করবে। তাই নিজেদের যোগ্যতা ও মেধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, দক্ষ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার, মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন।

নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। নবীনবরণ অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিকেলে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

Share

Follow us