আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে হামের প্রকোপ কমে যাওয়ার আশা চিকিৎসকদের
ঢাকা, ওপেনপ্রেস২৪ নিউজ ডেস্ক : সারাদেশে শিশুদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। সেজন্য আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে হামের প্রকোপ কমে যাওয়ার আশা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাকরা।
আজ, ১৫ মে ২০২৬, শুক্রবার রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বক্ষব্যাধিক বিষয়ক চিকিৎসকদের সংগঠন লাং ফাউন্ডেশন এবং চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খবর বাসস।
অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে এবং আমরা প্রথমে এই প্রাদুর্ভাব আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি, একই সাথে শোক সন্তপ্ত মা-বাবা প্রতি সমাবেদনা জানাচ্ছি।
তারা বলেন, এই অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের জাতীয় জীবনে দুঃখ বেদনার কারণ হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলেন, হামের একটি প্রধান কমপ্লিকেশন হচ্ছে নিউমোনিয়া এবং নিউমোনিয়াই হামের মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ।
চিকিৎসকরা বলেন, ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়ার দুই ধরনের নিমোনিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে । সেজন্য এই কমপ্লিকেশন মোকাবেলায় আমাদের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ এবং শিশু বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে আমরা সরকারকে চারটি প্রস্তাব দিয়েছি।
এর মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হামের টিকা দান কর্মসূচিকে অব্যাহত রাখা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলা, উপজেলা এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ফিভার কর্নার স্থাপন করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
চিকিৎসকরা বলেন, অসুস্থ শিশুদের বিষয়ে অভিভাবকদেরকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। আর সেটা হল শিশু অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ঝাড়ফুক বা লোকাল মেডিসিনের দোকান থেকে ওষুধ খাইয়ে রোগ বাড়ানো যাবে না।
চিকিৎসকরা বলেন, একটি অসুস্থ শিশুকে দ্রুততম সময় হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে যেভাবে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করা সম্ভব কিন্তু দেরিতে আসলে অনেক সময় সে ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে মোটেও সময় ক্ষেপণ করা যাবে না। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আবিদ হোসেন মোল্লা, পেডিয়াট্রিক পালমনোলজিস্ট এবং বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. রুহুল আমিন, চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. আনারুল আনাম কিবরিয়া, পেডিট্রিশিয়ান প্রফেসর ডা. নুরুল আমিন, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেনু, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর ডা. আসিফ মোস্তফা মাহমুদ ও চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. গোলাম সারোয়ার বিদ্যুত।
চিকিৎসকরা বলেন, সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হামে আক্রান্তের হার অনেকখানি হ্রাস করা সম্ভব ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত দুই বছরে এই টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়ায় এ বছর মার্চ মাস হতে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
চিকিৎসকরা জানান, ১৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত দু মাসে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন হাম আক্রান্ত শিশুর মধ্যে মধ্যে দুঃখজনকভাবে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম সদৃশ্য উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।
তারা বলেন, এই হাম জনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে পড়া এবং নিউমোনিয়া।
সে কারণে আমরা দেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও শিশু বিশেষজ্ঞদের সাথে বসে এই ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি।
তারা বলেন, আমরা সরকারকেও বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছি।
অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, আমরা দেশের বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ সহ সকল চিকিৎসকগণ দেশের সার্বিক হাম পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন। কিন্তু শংকিত নই।
চিকিৎসকরা বলেন, সকলের সচেতনতার মাধ্যমে এই প্রকোপ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, মনে রাখতে হবে হাম একটি অতিমাত্রায় সংক্রমণযোগ্য রোগ। যা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হচ্ছে শতকরা ৯৯ শতাংশ হাম আক্রান্ত রোগী সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে।
তারা জানান, শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। প্রতিটা শিশু অসীম সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা প্রতিটা শিশুর জন্মগত অধিকার।
চিকিৎসকরা বলেন, যেকোনো শিশুর মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ন্যূনতম পর্যায়ে কমিয়ে আনতে সক্ষম হবো এবং যারা ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়েছে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে সুস্থ করে তুলবো।

