জাতীয়

সকল নৃ-তাত্ত্বিক জাতিসত্তা, ধর্ম ও ভাষাগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যের সংমিশ্রণেই এই মাতৃভূমি : তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ওপেনপ্রেস২৪ নিউজ ডেস্ক : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ একটি মানব শরীরের মতো। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেমন অনিবার্য, তেমনি আমাদের দেশের সকল নৃ-তাত্ত্বিক জাতিসত্তা, ধর্ম ও ভাষাগোষ্ঠীর বৈচিত্রের সংমিশ্রণেই এই মাতৃভূমি।

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্রকে যারা ধারণ করতে জানে না বা যারা এখানে জোর করে বিভাজন তৈরি করতে চায়, তারা দেশবিরোধী। আর এই বৈচিত্র্যকে ধারণ করাই হলো প্রকৃত দেশপ্রেম।’

আজ, ১৫ মে ২০২৬, শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে ‘বিজু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিষু, চাংক্রান উৎসবোত্তর পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসস।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংবর্ধনা দিতে এই আলোচনা সভা ও প্রীতি সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর মাধ্যমে নাগরিক ভিত্তিক জাতীয়তার ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে সব ভাষা, বর্ণ ও জাতিসত্তার মানুষ সমানভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা পায়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পরই তার বক্তব্যে পাহাড় ও সমতলের নাগরিকদের সমান অধিকারের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের এই ঘোষণা ভবিষ্যতের নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংহতির জন্যই সংখ্যালঘু সকল জাতিসত্তার রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইন-কানুন তৈরি করতে হবে। আপনারা এ বিষয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগে একজন সহকর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকবো।’

জুলাই অভ্যুত্থান ও কোটা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোটামুক্ত মেধার যে ভিত্তি তৈরি করেছে, আমি তাকে স্বাগত জানাই। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদেরা তাদের রক্ত ও প্রাণ দিয়ে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতাগুলোকে উন্মোচিত করেছেন এবং রাষ্ট্র মেরামতের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে গেছেন।

মেজর (অব.) তপন বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁঞা এমপি, সাচিং প্রু জেরী এমপি এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সংবর্ধনা প্রদান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

Share

Follow us