দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রম
ঢাকা, (আপডেট ২৩ আগস্ট, ২০২৬) ওপেনপ্রেস২৪ নিউজ ডেস্ক/বাসস : দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার দপ্তর ও সংস্থাসমূহ চলমান আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি উপজেলা হলো- সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ।
সেখানে আরও জানানো হয়, চট্টগ্রামে বন্যা চলাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চলমান রয়েছে।
হবিগঞ্জ তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার সকল উপজেলার বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে কোনো পানিবন্দি পরিবার নেই। কোনো হতাহত হয়নি এবং জেলায় পাহাড়ধস অথবা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, হবিগঞ্জ কর্তৃক সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
খাগড়াছড়ি তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট রাতে ক্লাউড ব্লাস্টের কারণে একটানা তিন ঘণ্টায় ১০৩ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে ফেনী নদীর পানি বৃদ্ধিতে খাগড়াছড়ি সদরের গঞ্জপাড়া, মুসলিম পাড়া, মেহেদীবাগ, শান্তিনগর, খবংপড়িয়া, শব্দমিয়া পাড়াসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
এ ছাড়া মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধিতে দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী, মেবুং এবং বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা-মেবুং সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়। বৃষ্টিতে কৃষি, মৎস্য ও পশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে নদীর পানি কমতে শুরু করায় প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় আবারও কিছু সময়ের জন্য প্রচন্ড বৃষ্টি হয়। এসময় বজ্রপাতে মহালছড়ি উপজেলায় দু’জন ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়। তবে আজ সকালে বৃষ্টি নেই।
কক্সবাজার তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২ মি. মি. বৃষ্টি হয়েছে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অন্যান্য বিপদ এড়াতে জরুরি বার্তা নিয়ে মাইকিং প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মৌলভীবাজার তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। আকস্মিক বন্যায় মৌলভীবাজার জেলায় ৫৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, মৌলভীবাজার কর্তৃক বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
রাঙামাটি তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। ভারী বর্ষণের প্রথম থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহতভাবে চলছে।
বান্দরবান তথ্য অফিস থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ১০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র হতে লোকজন তাদের বাসা-বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস, বান্দরবান কর্তৃক ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।
বান্দরবানের লামার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিলো। সকাল থেকে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। বন্যা, পাহাড়ধস বা ভূমিধসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তথ্য অফিস, লামা কর্তৃক বন্যাকালীন সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
খাগড়াছড়ির রামগড়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলাটিতে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বর্ষাকাল হওয়ায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কিছু কিছু স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে দেখা যায়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমে থাকতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার ও মাইকিং করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়ার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলাটিতে পাহাড়ধস বা ভূমিধস হয়নি। বন্যা পরবর্তী করণীয়সহ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাপ্তাই, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলার আবহাওয়া আজ স্বাভাবিক থাকবে।

