স্বাস্থ্য

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নওগাঁ, (২৩ আগস্ট, ২০২৬) ওপেনপ্রেস২৪ নিউজ ডেস্ক/বাসস : জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ ২৩ আগস্ট ২০২৬ রোববার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসস

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসী ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সাথে কথা বলেন। এছাড়া মজুত থাকলেও রোগীকে স্যালাইন না দেওয়ায় এবং বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনায় রোগীকে টাকা ফেরত দেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের তীব্র সংকট দূর করতে আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর স্বাস্থ্যখাতে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। বর্তমান সরকার মাত্র ৬ মাসে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফেরানোর কাজ শুরু করেছে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডায়ালাইসিস সেবার মান উন্নত করার মাধ্যমে বিশেষ করে ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যেই জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা লেভেলে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দৈনিক ৩ শিফটে প্রায় ১৮০ জন রোগীকে সেবা দিতে পারবে। এছাড়া, আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাব সমৃদ্ধ ৯ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন হবে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতাল গুলোর অবকাঠামো ও আধুনিকায়নে উপজেলা পর্যায়ে শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫১ শয্যা করার সংশোধিত ডিপিপি (ডিপ্রোজেক্ট প্রোফাইল) অনুমোদন ও টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিটি ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে প্রসূতিদের চিকিৎসায় ২৫টি এবং শিশুদের জন্য আলাদা ২০টি বিশেষ শয্যা রাখা হবে।

স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ‘জনবল সংকট’ নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনসেবা নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।

প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং অনিয়ম রোধে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধনের শর্ত না মানলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও ডিসি-সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থ্যাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share

Follow us