জাতীয়

সরকার ক্ষমতায় এসে দ্রুতই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে

সংসদ ভবন, (৮ এপ্রিল, ২০২৬) ওপেনপ্রেস২৪ নিউজ ডেস্ক/বাসস : রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অধিকাংশ নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

তারা বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

আজ ৮ এপ্রিল, ২০২৬ বুধবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ১৯ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাসস।

নেত্রকোনা-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক বলেন, ‘এটি নজিরবিহীন যে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে এবং অধিকাংশ অঙ্গীকার এখন বাস্তবায়নের পথে।’

তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রশংসা করে বলেন, সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন।

পরে কার্যউপদেষ্টা কমিটি ওই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে।

চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।

মোট ১৫ জন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। তারা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে বলেছিলেন, ‘আমার একটি পরিকল্পনা আছে… দেশের মানুষের জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে।’ সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

কুমিল্লা-১০ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূইয়া বলেন, বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেশের ১৫ জেলার ১৩টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন উপাসনালয়ের ৯ হাজার ১০২ জন উপকারভোগীর মধ্যে সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ জনগণের প্রশংসা পেয়েছে।

শেরপুর-১ আসনের বিরোধী দলের সদস্য এম রাশেদুল ইসলাম বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের সম্মত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারকে কাজ করতে হবে, না হলে দেশ আবার পিছিয়ে পড়বে।

এছাড়া মৌলভীবাজার-৪ আসনের মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এর এম খালেদ হোসেন মাহবুব, জামালপুর-৫ এর শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেস আলী মামুন, কিশোরগঞ্জ-১ এর মজহারুল ইসলাম, শরীয়তপুর-২ এর এম শফিকুর রহমান কিরণ, হবিগঞ্জ-২ এর আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, সিরাজগঞ্জ-৩ এর আইনুল হক, নারায়ণগঞ্জ-৪ এর জাতীয় নাগরিক পার্টির আবদুল্লাহ আল আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ এর জামায়াতের দলীয় সংসদ সদস্য এম জহিরুল ইসলাম এবং নীলফামারী-২ এর আল ফারুক আবদুল লতিফ আলোচনায় অংশ নেন।

সংসদ সদস্যরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

Share

Follow us